
মেহেরপুর সদর উপজেলার ১৯ নম্বর দক্ষিণ শালিকা মৌজায় ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, ফসল নষ্ট, ভাঙচুর, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ইস্তাদুল হক।
গতকাল সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ইস্তাদুল হক জানান, দক্ষিণ শালিকা মৌজার আরএস ২৫৯৯ দাগের ৪২ শতক, আরএস ৩১০৬ দাগের ৩২ শতক এবং আরএস ৩০৭২ দাগের ২০ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন তাহাজ উদ্দিন শেখ। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে মেয়ে সায়রা খাতুন, আমিরুন্নেসা এবং ছেলে আখতারুল ওই জমির মালিক ও দখলদার হন। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর ৫৯৫৬/১৪ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিলমূলে মোট ৪০ শতক জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন ইস্তাদুল হক।
তিনি দাবি করেন, জমি ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল করে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে আসছেন। বর্তমানে ওই জমিতে কলা ও পাটের চাষ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সালাম ও আলতাফের কু-পরামর্শে কদর আলী, জাইদুল ও ছাকাত দীর্ঘদিন ধরে তার ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে কদর আলী ২০১৩ সালে মেহেরপুর যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করলেও ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে বাদীর অনুপস্থিতিতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
ইস্তাদুল হকের অভিযোগ, মামলায় পরাজিত হওয়ার পরও প্রতিপক্ষরা বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করে আসছে। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তার গম ক্ষেতে ক্ষতিকর কীটনাশক স্প্রে করে ফসলের ক্ষতি করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি জমির সব কলাগাছ কেটে ফেলা হয়।
অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত ২৯ মে দক্ষিণ শালিকা মাঠে তার ১০ কাঠা জমির কলাগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কাঠা জমিতে আবাদ করা পাট ক্ষেতে ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত স্যালো মেশিন ভাঙচুর করে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কদর আলী ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে তাকে এবং তার শ্যালক লতিফুল খবির স্বপনকে হত্যা ও জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। এসব হুমকির কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে মেহেরপুর সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নম্বর দেং-৩৩/২৬।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমি ও আমার শ্যালক লতিফুল খবির স্বপন বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। ফসল নষ্ট, ভাঙচুর, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও দক্ষিণ শালিকা মৌজার একই জমি নিয়ে ফসল কর্তন, জমি দখলে বাধা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগে কদর আলী, জাইদুল ও ছাকাতের বিরুদ্ধে মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ইস্তাদুল হক।

