
মোবাইল গেম ‘ফ্রি ফায়ার’ ও ‘পাবজি’ খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেরপুরের গাংনীতে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান আল আবির (১২) হত্যা মামলায় দুই কিশোরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দেশের স্মার্টফোন থেকে ‘ফ্রি ফায়ার’ ও ‘পাবজি’ গেম অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদকে (১৫) ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নুহু নবীর ছেলে জুনাইদ ইসলাম হামিমকে (১৪) ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায়ের পর সেই অর্থ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ জুন অনলাইন গেমের পাসওয়ার্ড নেওয়াকে কেন্দ্র করে আবিরের সঙ্গে তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও জুনাইদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ওই দিন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মানিকদিয়া গ্রামের একটি পাটক্ষেতে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আবিরের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাবার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ঘাতকেরা। পরিবার বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মুজাহিদ ও জুনাইদকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরদিন, ২০২১ সালের ২৭ জুন নিহতের মা রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, ঘটনার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইনের আওতায় আদালত সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে মোবাইল গেমের এমন ভয়াবহ অপপ্রভাব রোধে বিটিআরসিকে অবিলম্বে ‘ফ্রি ফায়ার’ ও ‘পাবজি’ গেম অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার আব্দুল মতিন।

