
মেহেরপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মরিচের দাম ছিল ৯০ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
তবে দাম বাড়লেও কৃষকদের মনে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। শুরু হয়েছে বৃষ্টি; জমিতে পানি জমে থাকা কিংবা বৃষ্টির পর হঠাৎ রোদ উঠলে মরিচগাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে চাষিরা ঠিকমতো মরিচ তুলতে পারছেন না।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গাংনী উপজেলার দেবীপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেড়েছে।
গাংনী উপজেলার একাধিক মরিচ চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে অন্যান্য ফসলের তুলনায় মরিচ চাষে বেশি লাভ হচ্ছে। আজ প্রতি কেজি মরিচ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বৃষ্টির পর রোদ উঠলে উপজেলার অধিকাংশ মরিচগাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ফলন ভালো হলে ভালো লাভ পাওয়া যায়। এখানকার উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
মরিচ চাষি রকিবুল ইসলাম বলেন, “এখানকার কৃষকেরা পতিত ও আবাদি জমিতে মরিচ চাষ করেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। আজ মরিচ ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমিও মরিচ নিয়ে এসেছি, এখনও বিক্রি করিনি। ১৯০ টাকা দাম পেলে বিক্রি করে দেব।”
গাড়াবাড়িয়া এলাকার মরিচ চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, “মরিচের বস্তা দেখলেই ব্যবসায়ীরা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আজ মরিচ ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে, এতে চাষিরা লাভবান হবেন।”
মরিচ চাষি ইমরান হোসেন বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও মরিচ চাষ করেছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কম সময়েই ভালো লাভ হবে। তবে বৃষ্টির কারণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি ও হালকা বাতাসে গাছের গোড়া নরম হয়ে যায়। পরে রোদ উঠলে গাছ মারা যায়, এতে অনেক চাষিকে লোকসান গুনতে হয়।”
মরিচ ব্যবসায়ী মো. ইনজাল হোসেন বলেন, “আজ মরিচের কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, অথচ গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। মরিচের দাম ওঠানামা করা বোঝা কঠিন। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।”
দেবীপুর বাজারের ইজারাদার মো. মিন্টু মিয়া বলেন, “কোনো দিন ৫ হাজার, কোনো দিন ৪০ হাজার, আবার কোনো দিন ৩ হাজার কেজি মরিচ বাজারে আসে। আজ প্রায় ৩ হাজার কেজি মরিচ আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় আমদানি কমেছে।”
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮২৫ হেক্টর। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মরিচের আবাদ কিছুটা বেড়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো দাম অব্যাহত থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন। বর্তমানে মরিচের বাজারদর ভালো রয়েছে। তবে ভারী মৌসুমি বৃষ্টির সতর্কতা থাকায় ক্ষতি এড়াতে জমিতে নালা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।”

