
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান বলেছেন, “আমরা যখন সংসদে কথা বলি, সেখানে সারের অভাব নেই, গ্যাসের অভাব নেই, তেলের অভাব নেই। অথচ সংসদের বাইরে এসবের প্রচণ্ড সংকট।”
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত লিফলেট বিতরণ ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চাকরিতে নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাজউদ্দীন খান বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে তরুণেরা ‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগান দিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু এখন আবার নিয়োগে নতুন করে কোটা চালুর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া এবং চাকরির জন্য ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “সেই দামাল ছেলেরা কি এসব মেনে নেবে?”
তিনি বলেন, মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও কথা বলার কারণে আবারও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রণীত ডিজিটাল আইন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
তাজউদ্দীন খান বলেন, বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাঁরা কী করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ আলাদা করে দেওয়া হয়। কারও বাপের ক্ষমতা নেই সেই বরাদ্দ কেটে নেওয়ার।” এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি দলের পরিবর্তন হলেই হবে না; কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সৎ, যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
বারাদী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন। এ ছাড়া মেহেরপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির সোহেল রানাসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

