
মেহেরপুরের ইছাখালী সীমান্তে এক বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়দের হাতে দুই ভারতীয় কৃষক আটক এবং শেষ পর্যন্ত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তিনজনের মুক্তি—ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে সমাধান হলেও এর ভেতরে রয়েছে সীমান্তবাসীর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার একটি গুরুতর চিত্র।
আব্দুল মান্নান (৭০) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তসংলগ্ন জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নিজের মরিচখেতে কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে তিনি যদি সত্যিই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয়ে থাকেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—সীমান্তবর্তী একজন কৃষক তার নিজের জমিতে নির্বিঘ্নে কৃষিকাজ করার নিশ্চয়তা পাবেন না কেন?
সীমান্তে কোনো নাগরিক আটক হলে তার সমাধানের পথ হলো বিজিবিকে জানানো, প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা। গ্রামবাসীর প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তিন নাগরিকের মুক্তি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে এটিকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। সীমান্তবর্তী কৃষকদের জমি চাষ, চলাচল ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
সীমান্তের মানুষ কোনো দেশের শত্রু নয়; তারা সীমান্তের বাস্তবতার মধ্যে জীবনযাপন করা সাধারণ নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই সীমান্তে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষক মাঠে গেলে আতঙ্কিত না হন, আবার কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় মানুষও আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।
সীমান্তে শান্তি শুধু কাঁটাতার দিয়ে রক্ষা করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন আস্থা, যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কার্যকর সমন্বয়। কৃষকের হাতে যেন লাঙলই থাকে, আর সীমান্তে যেন প্রতিশোধের বদলে আইনের শাসনই জয়ী হয়।

