
পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দফায় দফায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে চার নারীসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাতকড়াসহ পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের। ১৭ ঘণ্টার মাথায় তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে হাতকড়াটি।
বুধবার রাত ৮টার দিকে দর্শনা থানার এসআই মোল্লা আরিফুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দর্শনার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর হালদারপাড়ায় অভিযান চালান। এ সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবু সিদ্দিককে (৬৮) গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ সময় ওই পাড়ার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষসহ সিদ্দিকের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলে পড়েন। একপর্যায়ে হাতকড়া পরিহিত সিদ্দিক মেম্বারকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের এএসপি শেখ নুরুল্লাহ ও দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম। এরপর শুরু হয় পুলিশের চিরুনি অভিযান।
রাতভর অভিযান চালিয়ে হাতকড়াসহ সিদ্দিক মেম্বারকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া ও হালদারপাড়ার রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ হালদার (৩৮), সেলিম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (১৯), হারুন অর রশিদের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৯), সঞ্জিত হালদারের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০), সঞ্জয় হালদারের স্ত্রী কনা রানী (২৫), খোকনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪০), সদর মন্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) এবং হরেন হালদারের ছেলে ফুলন হালদারকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে সিদ্দিক মেম্বার পালানোর পর থেকেই তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৭ ঘণ্টার মাথায় পুলিশের জালে আটকা পড়েন তিনি।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই সাইফুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে চণ্ডীপুরের তরিবত মন্ডলের ছেলে সিদ্দিক মেম্বারকে গ্রেফতার করেন।
এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, সিদ্দিককে গ্রেফতারের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে হাতকড়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এসআই মোল্লা আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের ওই মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধী কখনোই পুলিশের চেয়ে শক্তিশালী নয়। তাই সিদ্দিককে ছিনিয়ে নিতে যারা সহযোগিতা করেছে, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

