
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শওকত আরা আক্তার উর্মী। হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে শওকত আরা আক্তার উর্মী বলেন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও পত্রিকায় প্রায়ই হাসপাতালের দুরবস্থার খবর দেখা যায়। গত মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিভিল সার্জন তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য অ্যানেসথেসিওলজিস্টের সংকট রয়েছে, এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, “আজ হাসপাতালে এসে জনবল সংকটের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অত্যন্ত খারাপ অবস্থা দেখেছি। রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে এসে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না, অথচ বাধ্য হয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। অনলাইন মিডিয়া ও পত্রিকায় রোগীদের খাবার সরবরাহ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ জানতে পেরেছি। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”
হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, হাসপাতালের ভেতরে ডাবের খোসা ও বাদামের খোসা পড়ে থাকতে দেখেছেন। বারান্দায় জমে ছিল পানি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেখানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি, সেখানে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ থাকা উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণার কথা উল্লেখ করে শওকত আরা আক্তার উর্মী বলেন, সারা দেশে এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় সভায় মেহেরপুরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে অসচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
হাসপাতালের সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে ওষুধের সংকট রয়েছে এবং রোগীরা পর্যাপ্ত ওষুধ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, রোগীদের খাবারের মান বজায় রাখা এবং যথাযথভাবে খাবার সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য বলেন, “বিশেষ করে মেহেরপুরে ডেঙ্গু বাড়ছে। তাই আপনাদের যতটুকু জনবল রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।”
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পরিদর্শনে পাওয়া সমস্যা ও বিভিন্ন অভিযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরবেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করবেন, যাতে সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাসিম আক্তার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলামসহ বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

