
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৩নং ফুরসন্ধি ইউনিয়নের জিথড় মধ্যপাড়া গ্রামের প্রায় ২৫ ঘর হিন্দু পরিবার রাস্তার অভাবে চলাচলের অসুবিধা ও মানবেতর জিবন যাপন করছে ।প্রায় ১৮ বছর ধরে এই সমস্যার মধ্য দিয়ে জিথড় মধ্যপাড়া গ্রামবাসীরা দিন যাপন করছে।
চলাচলের জন্য যতটুকু পথ আছে তা একজন ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে। জিথড় গ্রামের শুশিল মন্ডল ও সুনিল মন্ডলের জিথড় ভবানীপুর মৌজার ১০৫৮ ও ১০৫৯ দাগের জমির পাশ দিয়ে এই চলাচলের পথ।
এখানে একই মৌজার ৯ নং দাগের সরকারি খাস জমির উপর দুইটি মন্দির রয়েছে রয়েছে একটি পুরাতন মন্দির যেখানে বর্তমানে পূজা অর্চনা হয় না।
বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধিনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র নামে শিশুদের পাঠদান করানো হচ্ছে। পাশেই নতুন রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়।
পুরাতন মন্দিরটি সরকারি খাস জমির উপর নির্মাণ করার সময় জিথড় মধ্যপাড়া গ্রামবাসীরা চলাচলের রাস্তার কথা বললে পাশের জমির মালিক শুশিল মন্ডল বলেন তোরা আমার জমির পাশ দিয়ে চলাচল করিস। শুশিল মন্ডলের মৃত্যুর পর ছেলে সুবাস মন্ডল ও সুমন মন্ডল তাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা দিতে নারাজ। তাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন আমাদের আর চাষের কোন জমি নেই, এই জমিটুকুই আমাদের আছে এই জমি দিয়ে আমরা রাস্তা দিতে পারবো না। তারা আরও বলেন যদি পুরাতন মন্দিরের সিড়ি ও বারান্দা কিছু অংশ ভেঙ্গে রাস্তা করা হয় সেক্ষেত্রে ভাঙ্গা গড়া বাবদ আমরা কিছু খরচ দিতে পারি।
এদিকে জিথড় মধ্যপাড়া গ্রামবাসীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন তাদের চলাচলের রাস্তা দরকার কিভাবে হবে সেটা আমরা জানিনা। কারন রাস্তার অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ঠিকমত স্কুলে যেতে পারে না, বৃষ্টির সময় কাঁদার কারনে অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে যেতে হয়, মাঠের ফসল ঠিকমত ঘরে তোলা যায় না, লাঙ্গল গরু নিয়ে মাঠে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়, এমনি রাস্তার কারনে পরিবারের ছেলে মেয়েদের ভালো জায়গায় বিবাহও দিতে পারি না। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই গ্রামের কোন মানুষ মারা গেলে ঠিকমত মরদেহটিও সৎকাজের জন্য শ্মশানে নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। কোন গর্ভবতী মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হলেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। এরকম নানা রকম সমস্যার মধ্যদিয়ে আমরা এই গ্রামে বসবাস করি। আমরা চাই এই সমস্যার উত্তোরন হোক এবং সরকারি ভাবে আমাদের একটা চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।রাস্তার ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার টিপু বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে গ্রামে বহুবার বসাবসি করা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। দেখি আর একবার সবাইকে নিয়ে বসার চেষ্টা করবো।
গ্রাম্য মাতব্বর সুনিতি বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, রাস্তার ব্যাপারে বহুবার বসা হয়েছে কিন্তু গ্রামে দুইটা সামাজিক দল থাকায় সমস্যা সমাধানে আসতে পারিনি। একটা পক্ষ চাই না এই জায়গায় দিয়ে রাস্তা বের হোক ।কারন জিথড় মধ্যপাড়ার বাসিন্দারা বর্তমান চেয়ারম্যানের দল করে না।তাই তিনি এব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেন না।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৩নং ফুরসন্ধি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহিদ সিকদারের সাথে এব্যাপারে কথা বললে তিনি বলেন রাস্তাটি ওখানে হওয়া দরকার কারন ঐ পাড়ায় যারা বসবাস করে তাদের যাতায়াতের খুবই সমস্যা, আমি দু- দুবার রাস্তাটি দেখতে গিয়েছি কিন্তু একটা পক্ষ সামনে পেলেও পাশের জমিওয়ালাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারিনি। তাদের সাথে মোবাইলে কথা বলে জানতে পেরেছি তারা তাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা দেবে না।
তবে এখন যেহেতু ঐ পুরাতন মন্দিরে পূজা অর্চনা হয়না পাশে যেহেতু নতুন মন্দির হয়েছে সেহেতু ঐ মন্দিরের সিড়ি এবং বারান্দার কিছু অংশ ভেঙ্গে রাস্তা করা যেতে পারে। তবে একাজ করলেও পাশের জমিওযালাদের রাস্তার জন্য জমি কিছু হলেও ছাড়তে হবে।

