
মেহেরপুরের মাটি, ইতিহাস ও মানুষের কথা তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস হিসেবে দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন আজ ৯ম বছরে পদার্পণ করেছে—এ এক গৌরবের মুহূর্ত, শুধু একটি পত্রিকার জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য।
একটি অবহেলিত ও সম্ভাবনাময় জনপদ থেকে একটি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে সাহস, শ্রম ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রকাশক এম.এ.এস ইমন, সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহবুব চান্দুসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরলস প্রচেষ্টায় এই পত্রিকাটি আজ মেহেরপুরের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মেহেরপুরে সংবাদপত্রের ইতিহাস একদিনে গড়ে ওঠেনি। ‘সাধক’, ‘পল্লী শ্রী’, ‘সীমান্ত’, ‘প্রবাহ’ থেকে শুরু করে সাপ্তাহিক ও অনিয়মিত নানা প্রকাশনা এই অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার ভিত তৈরি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন আজ একটি স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এটি শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের গল্প তুলে ধরে এক প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, যেখানে অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি উদ্যোগ নেননি, সেখানে একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে এম.এ.এস ইমন সাহস করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তা সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
পত্রিকাটির বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য, উপস্থাপনার সৌন্দর্য, সাহিত্য ধারা এবং বস্তুনিষ্ঠতা পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। ‘মুক্তকথা’ অনুষ্ঠানের মতো উদ্যোগও স্থানীয় পর্যায়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রকাশক ইমন, সম্পাদক ইয়াদুল ও ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক চান্দুর সাহসী পথচলা মেহেরপুরের সংবাদপত্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আমি তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।দোয়া রইল তাদের জন্য।এগিয়ে যাও মেহেরপুরবাসীকে সাথে নিয়ে। আমরা তোমাদের সাথে আছি।
একথা সত্য যে, মেহেরপুরের মতো ছোট ও কৃষিনির্ভর এলাকায় একটি দৈনিক পত্রিকা টিকিয়ে রাখা সহজ কাজ নয়। কিন্তু প্রতিকূলতা জয় করেই মেহেরপুর প্রতিদিন এগিয়ে চলেছে—এটাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি।
এই শুভক্ষণে প্রত্যাশা—পত্রিকাটি আরও সমৃদ্ধ হোক, আরও নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ হোক, মানুষের কথা বলুক, সত্যের পক্ষে থাকুক।
পরিশেষে বলা যায়,এগিয়ে যাক দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন,এগিয়ে যাক মেহেরপুরের গণমাধ্যম, এগিয়ে যাক এই অঞ্চলের মানুষ, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনা।
মুহাম্মদ রবীউল আলম: লেখক-সাংবাদিক।ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক মুক্তিবাণী

