
ঝিনাইদহে বহুতল ভবনে কাজের সময় পড়ে গিয়ে তৈয়ব আলী (৪৪) নামে এক রঙ মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে আক্তার ফার্মেসি মার্কেটে রঙয়ের কাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তৈয়ব আলী সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুজন শ্রমিক ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দড়ির মই ঝুলিয়ে রঙের কাজ করছিল। ভবনের তৃতীয় তলার মাত্র দেড় ফিট দুরত্ব দিয়ে গিয়ে ওজোপাডিকোর হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ঘামে ভেজা গায়ে কাজের সময় বিদ্যুৎ ষ্পৃষ্ট হয় তৈয়ব আলী।
তৈয়ব আলীকে বিদ্যুৎ ষ্পৃষ্ট হতে দেখে আশপাশের দোকানে কাজ করা কয়েকজন ছুটে এসে ৪ তলার ছাদ থেকে রঙের বালতির দড়ি দিয়ে তাকে উপরে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তৈয়ব আলী আবারও বিদ্যুতের লাইনের ওপর এবং সবশেষে নিপে পিচ রাস্তার ওপর পড়ে যায়।
এসময় তার মাথা ফেটে ব্যাপক রক্তপাত হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তৈয়ব আলী সাথে কাজ করা ওপর শ্রমিক নাইমুল ইসলাম বলেন, আমরা দুজন সকাল থেকে ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার সামনের রঙের কাজ করছিলাম। সাড়ে ১০ টার দিকে তৈয়ব ভাই বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট হয়। তখন আশপাশের কয়েকজন এসে রঙ তোলা বালতি দিয়ে তাকে ছাদে তোলার চেষ্টার সময় সে নিচে পড়ে যায়। নাইমুল ইসলাম বলেন, কাজের সময় তাদের কোন সেফটি বেল্ট ছিল না এবং ভবনের কোল ঘেষেই গেছে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ এস এম আশরাফুজ্জামান সজীব ডেইলি স্টার’কে বলেন, তৈয়ব আলীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন, বহুতল ভবনে কাজের সময় একজন রঙ মিস্ত্রি বিদ্যুৎ ষ্পৃষ্ট হয়ে ও পড়ে গিয়ে মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। পরিবার থেকে কোন অভিযোগ এখনো জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

