
মেহেরপুরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (নগদ) মাধ্যমে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আবু জাফর ওরফে কনক দম্পত্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ৭ মে বৃহস্পতিবার মেহেরপুর সদর আমলী আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী হাসান হাফিজুর রহমান। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে সময় জারি করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন শহরের মন্ডলপাড়ার মোঃ আবু জাফর সিদ্দিক কনক ও তার স্ত্রী মোছাঃ ফিরোজা। মামলার বাদি হাসান হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদীর এশিয়া নেট মোড়ে “সাদাদ মেডিসিন কর্নার” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবাও পরিচালনা করেন তিনি। আসামিদের বাড়ি বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি হওয়ায় এবং তারা নিয়মিত ওষুধ ক্রয় করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিরা বাদীর প্রতিষ্ঠানে এসে জানান, তাদের মেয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করেন এবং জরুরিভাবে তাকে টাকা পাঠাতে হবে। পরে বাড়ি থেকে টাকা এনে পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দেন তারা।
বাদী সরল বিশ্বাসে আসামিদের দেওয়া ০১৮৭৬-২৫৯৮৬৪ নম্বরে প্রথমে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং পরে আরও ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা পাঠান। এতে মোট ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করা হয়।
এরপর থেকেই আসামিরা বাদীর প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা সাড়া দেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী মেহেরপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সমিতির পক্ষ থেকে আসামিদের ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে বাজার কমিটির সদস্যরা আসামিকে তার ইজিবাইকসহ আটক করলে তিনি জামানত হিসেবে ইজিবাইকটি ব্যবসায়ী সমিতিতে রেখে যান। তবে এখনো টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত ১ মে বিকেল ৫টার দিকে বাদী সাক্ষীদের নিয়ে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং খুন-জখমসহ বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার ভয়ভীতি দেখিয়ে অপদস্থ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

