
মেহেরপুরের বারাদীতে নির্মাণাধীন বিএডিসির ৪ হাজার মেট্রিক টন পিএফজি সার গুদামে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে এমন খবরে পরিদর্শনে আসেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত নেতৃবৃন্দ। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাব্বারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খান এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের পাঠিয়েছেন। আমরা এর সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিই এবং নিম্নমানের ইট পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো নির্মাণসামগ্রী পরিবর্তন ছাড়াই পাঁচ দিন কাজ বন্ধ থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয় মেঝে ঢালাইয়ের কাজ।
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দেদারসে এমন কাজ সম্পন্ন করা দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। প্রশ্ন তোলেন কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে। বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের উপস্থিতি ও তদারকিতে চলছে ঢালাই কাজ। তিনি বলেন, এক নম্বর ইট দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, তাহলে তিনি কী তদারকি করছেন? এমন নিয়মবহির্ভূত কাজের পেছনের শক্তির রহস্যটা কী?
নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে এফএমএপি বাস্তবায়নকারী প্রকল্প পরিচালক মজিবর রহমান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। কাজের মান কোনোভাবেই খারাপ করা যাবে না। বিষয়টি আমি দেখছি।” তবে এরপরও উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ কাজ বন্ধ রাখার পরও কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আবার কেন একই ইট দিয়ে কাজ হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী বলেন, কাজের ঠিকাদার জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেছিলেন। পরবর্তীতে আর কোনো তিন নম্বর ইট ব্যবহার হবে না এই মর্মে তারা অনুমতি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বারাদী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান বলেন, তাদের কাকুতি-মিনতি এবং ভুল স্বীকার করায় ওইটুকু কাজের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী কাজগুলো সিডিউল অনুযায়ী জামায়াত নেতৃবৃন্দের তদারকিতে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

