
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় অপহরণের নয় দিন পর রাফিন (২০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রাফিন পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের অর্জুন খালে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কুতুবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রাফিন। পাশের পাইকপাড়া গ্রামের একটি সেতুর কাছে তাকে যেতে বলা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
স্বজনদের দাবি, ওই রাতেই রাফিন তার দাদির মোবাইল ফোনে কল করে জানান, তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। একই সময়ে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে প্রথমে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ৮ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং ১০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, অপহরণকারীদের হুমকি উপেক্ষা করে তারা আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ছেলেকে উদ্ধারে তারা আলমডাঙ্গা থানা ও পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে দৌড়ঝাঁপ করেন। পুলিশও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাফিনের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পরনে থাকা জিনসের প্যান্ট দেখে সেটি রাফিনের বলে শনাক্ত করেন। তবে মরদেহের পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রাফিনের বলে শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা রাফিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

