
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মার্সেলো গ্রিন ও ইয়েলো কিং জাতের উচ্চমূল্যের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ।
মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারায় খুশি চাষিরা। অন্যদিকে নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে কোটচাঁদপুরে উচ্চমূল্যের গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ শুরু হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ চাষের পরিধি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় দেড় একর জমিতে সাতজন কৃষক এ তরমুজের চাষ করেছেন।
চাষিদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণবাড়িয়া গ্রামের জুবায়ের হোসেন, ফাজিলপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান, ছয়খাদা গ্রামের সজিব আহমেদ, রামচন্দ্রপুর গ্রামের শান্তি মিয়া, তালসার গ্রামের ফারুক হোসেন, কুশনা গ্রামের আবুল বাশার এবং বড়বামনদহ গ্রামের মহব্বত আলী। অধিকাংশ কৃষক ২০ শতক জমিতে এ তরমুজের আবাদ করেছেন।
কৃষকরা জানান, মাত্র ৭০ দিনের মধ্যে তরমুজ সংগ্রহ করে বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। অসময়ে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এ তরমুজের চাহিদাও বেশি। ফলে এলাকার আরও অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বড়বামনদহ গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী বলেন, কৃষি অফিসের সহায়তায় গত বছর এক বিঘা জমিতে প্রথমবার গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ করি। ফলন ভালো হয়েছিল। প্রথম বছর কিছুটা অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও লোকসান হয়নি। এবার বাজারদর ভালো থাকায় লাভও বেশি হবে বলে আশা করছি।
নারায়ণবাড়িয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, তিনি গত তিন বছর ধরে এ তরমুজের চাষ করছেন। বছরে তিনবার এ তরমুজের আবাদ করা সম্ভব। একবার ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করলে তিন মৌসুমে উৎপাদন করা যায়। এতে বছরে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হয়।
তিনি আরও বলেন, “এটি লাভজনক একটি ফসল। অল্প খরচে ও কম সময়ে ভালো উৎপাদন পাওয়া যায়। কেউ এ চাষ করতে চাইলে আমি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে গ্রীষ্মকালীন উচ্চমূল্যের তরমুজের সাতটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। চাষিরা ২০ শতক জমি থেকে গড়ে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তাদের প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের উন্নতমানের বীজ, সার, মালচিং সামগ্রী ও বালাইনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনী দেখে অন্য কৃষকরাও এ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোটচাঁদপুরে প্রায় দেড় একর জমিতে মার্সেলো গ্রিন, ইয়েলো কিং ও মেলোডি সুপার জাতের তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মার্সেলো গ্রিন জাতের তরমুজের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন।

