
যে সরকার চাঁদাবাজি করত, বিরোধী দলের ওপর জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতন চালাত, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর জেলে রাখত, ফাঁসি দিত সেই সরকারের পরিণতি যদি রান্না করা ভাত রেখে পালিয়ে যেতে হয়, তাহলে সেই পথে এখন কেউ হাঁটলে তাদের পরিণতিও একই রকম হবে বলে মন্তব্য করেছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান।
গতকাল বুধবার বিকেলে মেহেরপুর সড়ক বিভাগের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তাজউদ্দীন খান বলেন, “বাবা যে পথে গিয়েছে (আওয়ামী লীগ), ছেলেকেও সে পথে যেতে হবে (বিএনপি)। এ দেশের মানুষ কেবল রক্ত দিয়ে যাবে, এরা প্রতিবাদ করে যাবে, এরা হাত তুলে সামনে দাঁড়াতে পারে। বিধায় ধৈর্যের বাঁধ মানুষের নষ্ট করবেন না। তাহলে পালাবার পথ অন্যদের ছিল, কিন্তু আপনারা পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না।
আপনারা একটা করে আয়োজন করেন আর এই জেলার মানুষকে অতিষ্ঠ করে তোলেন। এখন শুনছি প্রত্যেকটা ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ হাজার, দশ হাজার করে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। কী সুন্দর জিনিস, কী ফুটফুটে জিনিস! আগে যা করল, তাই যদি করে থাকেন, এ জাতি দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নির্দোষ, নিরপরাধ নেতৃবৃন্দকে যদি ৪৫ বছর পরে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠিয়ে থাকেন, অন্যায়ভাবে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে থাকেন, আজকে পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার করছেন না। আজকে আমাদের নেতৃবৃন্দকে যারা ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন, তাঁদের বিচার করছেন না। এই জেলায় পাঁচজন ভাইকে হত্যা করল, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করছেন না। এরা যদি ৪৫ বছর পরে আমার নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিতে পারেন, বিচার করতে পারেন, বৈধভাবে ৫০ বছর পরে হলেও বিচার হবে বাংলাদেশের মাটিতে।”
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শহরের কোর্ট চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের শূরা কমিটির সদস্য ও সেক্রেটারি মো. ইকবাল হুসাইন, রাজনীতি সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির সোহেল রানা, পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানা ডলার, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমির জাহান আলী, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. মো. রবিউল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল সালামসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

