
আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় আম ও লিচু বাগানের মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করেছে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের একটি আম ও লিচু বাগানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বাগান পরিদর্শন ও কাঁটাতারের বেড়া মেরামতের উদ্দেশ্যে শহিদুল ইসলাম (৫৫) তার সঙ্গে শাহিবুল (২৭), শাস্তি (৬৫) ও জুয়েলকে (২৫) নিয়ে বাগানে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড, ফালা, ঝুপি, চাইনিজ কুড়াল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে শাহিবুল, শাস্তি ও জুয়েলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন।
একপর্যায়ে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় মজিবুল ইসলাম (৩০) এগিয়ে এসে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত নিলু তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার মাথার ডান পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
অপরদিকে সাত্তার (৫০) সংঘর্ষ থামাতে গেলে অভিযুক্ত কালু তাকে লক্ষ্য করে কোপ মারতে যায়। এসময় তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে যায় এবং কবজিতেও গুরুতর জখম হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত সাত্তারকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে আহত মজিবুলকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মাথায় প্রায় ৩৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভাংবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন নিলু (৩০), কালু (৪০), নালু (৩৫) ও আইতাল (৫৫)। তারা সবাই মৃত রিজাল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রামদা, একটি ধারালো ছুরি, একটি কুড়াল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব দেশীয় অস্ত্র সংঘর্ষে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ও এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

