
“মানুষের দুঃখ যত গভীর, ততই নীরব হয়ে যায় তার আর্তনাদ” এমনই এক নীরব কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের আব্দুল লতিব।
পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ তিনজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন লতিব নিজেই।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে পায়ে চালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েক মাস আগে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান কিনেছিলেন। কিন্তু ঋণের কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে চোরের দল তার বাড়ি থেকে ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।
এর ফলে একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে পরিবারের খাদ্যসংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরো পরিবারটির।
আব্দুল লতিব বলেন, “আমাদের পরিবারের সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। ভ্যানটা ছিল বলে কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে ছিলাম। এখন একবেলা খেলে অন্যবেলা না খেয়ে থাকতে হয়। এই কষ্টের কথা এখন কাকে বলব?”
একই গ্রামের বাসিন্দা আরোজ আলী বলেন, “লতিব ভাই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন। তাদের দেখার মতো আর কেউ নেই। ভ্যানটাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। এটি চুরি হওয়ায় তারা এখন খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তার পাশে দাঁড়াক।”
স্থানীয়রা জানান, একটি ঝুপড়ি ঘরে পরিবারটি বসবাস করে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে এবং ঝড়ের সময় ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কর্মসংস্থান হারিয়ে পরিবারটি এখন পুরোপুরি অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সহায়তা পাওয়াটাও যেন দুর্লভ হয়ে উঠেছে।
কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন জানান, “লতিবের পরিবারের তিন সদস্যই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। ভ্যানটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তার চেষ্টা চলছে।”
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন বলেন, ভ্যানটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের বিশেষ সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”

