
কুষ্টিয়াবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের (ইমার্জেন্সি) কার্যক্রম। এর মাধ্যমে কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী পাঁচ জেলার মানুষের জন্য আধুনিক ও দ্রুত চিকিৎসাসেবার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-২, ৩ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আনারুল কবির, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শহিদুল ইসলাম, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে অতিথিরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোগী গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা, জনবল, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক সেবার প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। তারা চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মানসম্মত ও মানবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ায় কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার মানুষ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ চালু হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে দূরের হাসপাতালে যেতে সময় নষ্ট ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আকুল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে জরুরি বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বহির্বিভাগ, ভর্তি সেবা, অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবাসহ হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রমও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাসপাতালটি চালু হওয়ায় কুষ্টিয়ার পাশাপাশি মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলার লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহী, খুলনা কিংবা ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ চিকিৎসক এবং পর্যায়ক্রমে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু হলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে।

