
মেহেরপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন নুরু রহমান, তাওফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন।
নুরু রহমান বলেন, মেহেরপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম করে প্রাথমিক বাছাই করা হয়েছে। নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এতে সাধারণ নাগরিক ও কৃষকরা সুবিধা পাবেন এবং সার বিতরণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে হবে।
সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি, আবেদনকারীদের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে সার ডিলার হওয়ার যোগ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সার বিক্রির সক্ষমতা রাখেন, দল-মত নির্বিশেষে জনস্বার্থে তাদের বাছাই করে ডিলার নিয়োগ দিতে হবে।
তাওফিকুল ইসলাম বলেন, কতিপয় সরকারি দলের লোকের যোগসাজশে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিল করে দলীয় একপেশে লোকদের নিয়োগ দেওয়ার যে পাঁয়তারা চলছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সার ডিলার নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। নিয়োগ প্রক্রিয়া যখন গোপনে ও রাতের আঁধারে করা হয়, তখন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায় এর মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না। রাতের আঁধারে ঘরে বসে স্বৈরাচারী কায়দায় সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
পরে জেলা প্রশাসক বরাবর ছয় দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাছাই কমিটিতে আবেদনকারী সার ডিলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা, অযোগ্য আবেদনকারীদের বাতিলের কারণ প্রকাশ করা এবং যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত সংখ্যার বেশি হলে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করা।
এ ছাড়া স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

