
জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার তিন দিনের মাথায় এবার মেহেরপুর আদালতে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী। মামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নাহিদ মাহবুব সানি, যুবদলের পাঁচ নেতাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা আদায় এবং বাকি টাকা না দেওয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বাদী।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুরের বিজ্ঞ আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মেহেরপুরের চাঁদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৮)।
এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী চাঁদপুর ট্রান্সপোর্ট নামে সবজি লোডিংয়ের ব্যবসা পরিচালনা করেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ট্রাক আটকে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপরও বাকি এক লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর শহরের বিএডিসি অফিসের সামনে গেলে আসামিরা তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি চায়ের দোকানের ভেতরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বাকি চাঁদার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিআই পাইপ ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় অন্য আসামিরাও কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নির্যাতনের পর বাদী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে দোকানের পাশে ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্তরা। পরে এক পথচারী তাঁকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এ সময় মামলা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।
মামলায় নাহিদ মাহবুব সানি ছাড়াও যুবদল নেতা মিঠুন আলী, শাকিল, রবি, তারিক ও শফি নামে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার সিআর নম্বর ১৩০৪/২৬। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৬৭, ৩৬৮, ৩৮৫, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে মেহেরপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করার তিন দিন পর আদালতে এ মামলা দায়েরের ঘটনায় মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

