
যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধুই লালচে রংয়ের লিচু আর লিচু, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে শুধু লিচুর থোকা। বাগানের দিকে তাকালে যেকারও এক দন্ড দাড়িয়ে দেখতে ইচ্ছে করবে।
বলছিলাম ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গুড়পাড়া ভাতুড়িয়া গ্রামের মোঃ মখলেছুর রহমানের লিচু বাগানের কথা। তিনি ৪৬ শতক জমিতে গড়ে তুলেছেন লিচু বাগান। পেঁকে যাওয়ার আগেই তিনি ১লাখ ৪০ হাজার টাকায় এক ব্যাপারির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এই লিচু বাগানটি।
সোমবার (১১ মে) সকালে সরেজমিনে লিচু বাগান দেখতে গিয়ে কথা হলো, বাগান মালিক মখলেছুর রহমানের সাথে, মখলেছুর রহমান একই গ্রামের মৃত সমশের বিশ্বাসের ছেলে, তিনি বললেন প্রায় ১২ বছর আগে রাজশাহী, ঈশরদি এবং মেহেরপুর থেকে চাঁরা নিয়ে এই লিচু বাগান করেছিলাম, এখানে বর্তমানে গাছ আছে ৪৫টির মতো।
সব গাছে সমান ফল আসেনি ৪১টি গাছের লিচু তিনি বিক্রি করেছেন ১লাখ ৪০ হাজার টাকায়। খরচের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এই চাষে তেমন কোন খরচ নেই বছরে একবার সার দিতে হয় আর একবার যখন ফুল আসে তখন ভিটামিন জাতীয় কীটনাশক স্প্রে দিলেই হয়।
এছাড়া ফল বড় হলে পাহারা দেওয়া ছাড়া অন্য তেমন কোন খরচ নেই। সবকিছু বাদ দিলেও বিঘা প্রতি বছরে ১লাখের উপরে লাভ করা সম্ভব। এই বাগানে চায়না, বোম্বাইসহ বিভিন্ন ধরণের হাইব্রীড লিচুর জাত রয়েছে বলে তিনি জানান।
এলাকার অনেক যুবক এই চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে লিচু বাগান করতে চাইলে, তাদের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগীতা করতে চান বলে জানিয়েছে।
তিনি উচ্চ ফলনশীল জাতের কলমের চারাও তৈরি করেন এই বাগান থেকে। তার লিচুর চারা নিয়ে অনেকে লাভবান হয়েছে বলে তিনি জানান। তার এই বাগানে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে কোন ধরণের সহযোগীতা বা দেখভাল করা হয়না বলে তিনি জানিয়েছে।
এব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম তিতুমির বলেন এব্যপারে তিনি কখনো যোগাযোগ করেননি তবে ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা খোজ খবর রাখেন।

