
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তারা পুলিশকে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চাইছে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে।”
গতকাল সোমবার বিকেল ৬টায় ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ২২ মে ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপি ও জেলা ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি মামলা করে। ছাত্রদলের দায়ের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আইনমন্ত্রীর জেলা ঝিনাইদহ। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখানকার আইন আদালত সরকারের একটি মহলের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের আশা ছিল পুলিশ জনগণের বাহিনী হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের সরকারপন্থি হিসেবে উপস্থাপন করছেন।”
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, “সরকার আওয়ামী লীগের মতো বিচার বিভাগ ও পুলিশকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ এ কারণেই জনরোষে বিদায় নিয়েছে। বর্তমান সরকারও যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আজ বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াত নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছে, আর ভারতে বসে আওয়ামী লীগ হাসছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে এনসিপি নেতাকর্মীরা পায়রা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এসময় বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা ও মুখ্য সমন্বয়ক রিফাত রশিদসহ অন্যান্য নেতারা।
প্রসঙ্গত, ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় রোববার এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সকালে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে একই মামলায় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা অয়ন রহমান খানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

