
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘কালু’ নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি ওজনের গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়িতে থাকা পাকিস্তানি শাহিওয়াল জাতের এ ষাঁড়টি দেখতে আশপাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন।
তবে পরিবারের দাবি, ষাঁড়টিকে সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছেন জহুরুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন। কালো ও হালকা লাল রঙের মিশেলে গড়া শক্তপোক্ত গঠনের গরুটি সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
হোসনেয়ারা খাতুন জানান, আড়াই বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো করেই ‘কালু’কে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই ঘাস, তুষ, চালের গুঁড়া, খৈল ও গুড় খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়।
তিনি আরও জানান, গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৭ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। অনেক ক্রেতা এসে গরুটি দেখে গেলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায়নি। উপযুক্ত দাম না পেলে কালুকে ঢাকার পশুর হাটে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান বলেন, “হোসনেয়ারা খুব পরিশ্রমী নারী। তার স্বামী বিদেশে থাকলেও বাড়িতে বর্তমানে ১১টি গরু রয়েছে, যা তিনি নিজেই লালন-পালন করেন। তবে সবগুলোর মধ্যে কালু সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়।”
জহুরুল ইসলামের ভাই শাহাজান আলী বলেন, “আমরা মালয়েশিয়া থেকে ঈদ করতে বাড়িতে এসেছি। বড় ভাবি আড়াই বছর ধরে কালুকে নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। তিনি নিজ হাতে খাওয়ানো, গোসল করানো এমনকি গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাসও করেন। এই ভালোবাসার মূল্য টাকা দিয়ে বিচার করা যাবে না।”
আরেক প্রতিবেশী হাফিজ আলী বলেন, “আমাদের এলাকায় কালুর মতো এত বড় ষাঁড় আর নেই। স্থানীয়ভাবে বড় গরুর চাহিদা কম হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। এজন্য কালুকে ঢাকার হাটে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, মেহেরপুর জেলায় ছোট-বড় প্রায় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু।
এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ ৪ হাজার ৮৪৪টি, গাভি ৮ হাজার ৫০৯টি, মহিষ ৪৮২টি, ছাগল ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া ২ হাজার ৭২০টি।
জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি। সে হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

