
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর শাহপাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আক্তার হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। আহত আক্তার বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আক্তার হোসেন জয়রামপুর শাহপাড়ার মৃত সবুর আলির ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই সুমন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার দামুড়হুদা মডেল থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর-৬, তারিখ ০৭/০৫/২০২৬ ইং।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে জয়রামপুর চৌধুরীপাড়ার ফকির মোহাম্মদের মেয়ে তাসলির সঙ্গে আক্তারের বিয়ে হয়।
দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং গত ৭ মে তাদের তালাক হওয়ার কথা ছিল। এর জের ধরে কিছুদিন ধরে আক্তারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জয়রামপুর শাহপাড়ায় রুবেলের ট্রাক্টর গ্যারেজের সামনে আক্তার পৌঁছালে তাসলি ও তার মা মেমজান পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা মুখ কাপড়ে ঢেকে ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, লোহার রড ও জিআই পাইপ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রাণ বাঁচাতে আক্তার গ্যারেজের ভেতরে আশ্রয় নিলেও সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আক্তারের মাথা, বুক, পেট, হাত, পিঠ ও পায়ে মোট ১০-১২টি গুরুতর কোপ লাগে। পরে হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়ায় চিকিৎসকরা মোট ৭৮টি সেলাই দিয়েছেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় সুমন নামের একজন বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

