
জৈষ্ঠ্যের তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে মানুষ ঝুঁকছেন মৌসুমি ফলের দিকে। আর এ সময় মেহেরপুরজুড়ে বেড়েছে তালের শাঁসের কদর। শহরের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও বাজারে এখন জমজমাট তালের শাঁসের বেচাকেনা।
মেহেরপুর শহরের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা, বয়েজ স্কুলের সামনে, হোটেল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সারি সারি বসেছে তালের শাঁসের অস্থায়ী দোকান। রসালো ও ঠান্ডা এ ফল কিনে খেতে দেখা যাচ্ছে নানা বয়সী মানুষকে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর তালের শাঁসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, বি ও সিসহ নানা ধরনের খনিজ উপাদান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অধিকাংশ অংশ জলীয় হওয়ায় গরমে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে বেশ কার্যকর। পাশাপাশি এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সহায়তা করে।
গরমে তালের শাঁস খেতে এসে ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তালের শাঁস খুবই সুস্বাদু। বাইরে গরম থেকে এসে এটা খেলে শরীরটা ঠান্ডা লাগে। গরমের সময় প্রায় নিয়মিতই খাই।”
পরিবারের জন্য তালের শাঁস কিনতে আসা মো. আকাশ বলেন, “এখন বাজারে কেমিক্যাল বা ফরমালিন ছাড়া ফল পাওয়া কঠিন। কিন্তু তালের শাঁস প্রাকৃতিক ও নিরাপদ। দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।”
ফুটপাতের বিক্রেতা মুজিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মৌসুমে তালের শাঁস বিক্রি করেন। আগে এক-দুই টাকায় শাঁস বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতি পিস ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সব খরচ বাদ দিয়ে চার থেকে পাঁচশ টাকা লাভ থাকে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “গরম যত বাড়ে, তালের শাঁসের চাহিদাও তত বাড়ে। গাছ থেকে তাল নামানো, বাজারে আনা, তারপর কেটে বিক্রি করা অনেক কষ্টের কাজ। তারপরও ভালো লাভ হয়।”
আরেক বিক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ কাঁদি তাল বিক্রি হয়। কেউ নরম শাঁস পছন্দ করেন, আবার কেউ একটু শক্ত শাঁস খোঁজেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে এবার ক্রেতাও বেশি।”
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ মৌসুমি ফল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। তাই দাবদাহের এই সময়ে মেহেরপুরে তালের শাঁস হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের স্বস্তির অন্যতম অনুষঙ্গ।

