
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার খানপাড়া মহল্লাবাসী বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্বল্প সময়ের জন্য এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী দামুড়হুদা চৌরাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়কে বসে পড়েন। এসময় তারা ব্যানার ও মাইকিংসহ মিছিল করেন। হঠাৎ সড়ক অবরোধের ফলে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পুলিশের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের দক্ষতা ও মার্জিত আচরণের কারণে কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোবাইল ফোন ভাঙাকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবি এবং তা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক দামুড়হুদার খানপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে সাজু ও রাজু নামে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী একজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত সার্জিক্যাল চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত রাজু ও সাজুর পিতা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বাইরে থেকে এসে স্থানীয়দের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তারা বর্তমানে এলাকায় নেই। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

