
আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় অপহৃত ফিরোজের আজও হদিস মেলেনি। তার পরিবার গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজের ৯ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি আদৌ বেঁচে আছেন, নাকি খুন হয়েছেন এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছে। এলাকাবাসী আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি ক্রোকারিজ কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যান থামিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট করা হয় এবং ডেলিভারি ম্যান ফিরোজ হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনাটি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ১০টার দিকে বৈদ্যনাথপুর এলাকায় ঘটে। তার ব্যবহৃত পণ্যবাহী আলমসাধু গাড়িটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে তার পরনের লুঙ্গি ও গায়ের পোশাক।
ঘটনার পর রাতভর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল অনুসন্ধান চালিয়েও ফিরোজ হোসেনের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ ফিরোজ হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গত তিন বছর ধরে বিজি ক্রোকারিজ কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মেহেরপুর জেলার মথুরাপুর এলাকায় পণ্য সরবরাহ শেষে আলমডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন কোম্পানির ম্যানেজার বাচ্চু হোসেন। পথে হাটবোয়ালিয়া নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাচ্চু হোসেন নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ি থেকে নেমে যান। এরপর ফিরোজ একাই আলমসাধু নিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
রাত ১০টার দিকে বৈদ্যনাথপুর মাঠ এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা আলমসাধু থামিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ফিরোজ হোসেন নিখোঁজ এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ দল তদন্ত করেছে। সম্ভাব্য ছিনতাই ও অপহরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আশপাশের মাঠ ও সড়কসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

