
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বন্য খরগোশ শিকার ও হত্যার দায়ে ৪ জনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস, একই উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তোয়াজ আলীর ছেলে সাদগার আলী, সাধুমণ্ডলের ছেলে শুকুমার মণ্ডল এবং মোহন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।
অভিযানকালে ১১টি বন্য খরগোশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫টি জীবিত এবং ৬টি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলুর কাছে খবর আসে যে, তিতুদহ ইউনিয়নের দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে ১৬ সদস্যের একটি শিকারি দল বন্য খরগোশ শিকার করছে।
খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল খায়ের আতা এলাহীকে অবহিত করেন। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ শিকারি পালিয়ে গেলেও ৪ জনকে আটক করা হয়।
পরে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৫টি খরগোশকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার বা আটক করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাঠে বন্য খরগোশের উপস্থিতি এ এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সংগঠন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
এ সময় সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, বায়জিদ, রিয়াজ উদ্দীন, সাহাবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

