
আলমডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে তেল পাম্পে জ্বালানি নিতে ভিড় করলেও অনেক গ্রাহক কার্ড প্রদর্শন করছেন না। এমনকি তেল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যায়নি।
উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার নির্দেশনা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়। সব যানবাহনের চালক বা মালিককে নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করেই তেল নিতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও কোনো পাম্পেই তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করেই চলছে জ্বালানি তেল সরবরাহ।
সরেজমিনে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার তিনটি তেল পাম্পের মধ্যে গত শুক্রবার মেসার্স হক তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও পাম্পে ছিল দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, জেলার কৃষকরাও ডিজেল সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন তাদের কাজের প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “শুক্রবার ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৫০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। কিন্তু পাম্পে কোথাও ফুয়েল কার্ডের ব্যবহার দেখলাম না। প্রায় সবাই কার্ড ছাড়াই তেল নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ বা ট্যাগ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংও চোখে পড়েনি।
আরেক গাড়িচালক আবু জাফর বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন বা পাম্পের পরিচিতরা লাইনের বাইরে থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা লাইনে আছি, তারা বঞ্চিত হচ্ছি। কষ্ট করে ফুয়েল কার্ড করলাম, কিন্তু এর ব্যবহার দেখলাম না।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৬ হাজারের বেশি ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি তেল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে। জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সুবিধাও রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার তিনটি পেট্রোল পাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফুয়েল কার্ডে গ্রাহক আগে কত তারিখে ও কী পরিমাণ তেল নিয়েছেন তা উল্লেখ থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

