
সারাদেশের মতো মেহেরপুরেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল, গতকাল শনিবার ৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিনে হাসপাতালে ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে ২১ জন শিশু।
সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নিচে আলাদা একটি ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ৯ জন। শুক্রবার ও শনিবার নতুন করে ৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার ১ জন এবং গাংনী উপজেলার ২ জন রয়েছে।
গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মৌসুমী জানান, প্রথমে শিশুর জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। গত ৬ মাস ধরে টিকা নিতে পারিনি। টিকা নিতে গেলে বলা হয়, টিকা নেই।
সদর উপজেলার ঝাউবেরিয়া এলাকার মুনিয়ারা বলেন, আমার মেয়ের বয়স ৯ মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে, কিন্তু এখনো কোনো হামের টিকা দেওয়া হয়নি।
জেনারেল হাসপাতালের নার্স জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাম হলে জ্বর, শরীর ব্যথা ও নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা জরুরি। তিন-চার দিনের মধ্যে শরীরে র্যাশ দেখা দেয় এবং পরে মুখে ঘা হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নিতে হবে।

