
তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে নাভিশ্বাস অবস্থা মেহেরপুরের গাংনীর বাসিন্দাদের। এর ওপর ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল।
জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের বিল আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ খরচের হিসাবের বাইরে।
স্থানীয়রা জানান, গত মে মাসে এলাকায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার হার ছিল ব্যাপক। লোডশেডিংয়ের কারণে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে বিলের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি আসায় সাধারণ গ্রাহকরা হতবাক।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক তানিম আহমেদ বলেন, ‘মে মাসে আমার বিল এসেছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অথচ লোডশেডিংয়ের মধ্যেও জুন মাসে তা ১৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মিটার রিডাররা সঠিক সময়ে মিটার দেখে গেছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
হাসানুজ্জামান নামের এক গ্রাহক বলেন,গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ৪০০০ টাকা।আর এ মাসে এসেছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।কিন্তু গত মাসে চরম লোডশেডিং ছিল তারপরও এত বিদ্যুৎ বিল কেন হলো বুঝতে পারছি না।আমাদের এমন অবস্থা কাগজে লেখা হয়ে গেলেই দিতে বাধ্য থাকতে হবে।
সুজন আহমেদ নামের আরেক গ্রাহক জানান, গত মাসে তার বিল ছিল ৮০০ টাকা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৪০০ টাকা। একইভাবে হাসানুজ্জামান নামের এক গ্রাহকের বিল ৪০০০ থেকে বেড়ে ৫,৫০০ টাকা হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে বিল পরিশোধের জন্য মাইকিং করা হলেও, কেন ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয় না। উল্টো অতিরিক্ত বিল পরিশোধের চাপে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। তারা জানান, সঠিক সময়ে বিল না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয়ে অনেকে অভিযোগ করার সাহসও পান না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) মো. সৌমিক নাসের বলেন, ‘জুন মাসে বিল অস্বাভাবিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মূলত মে মাসের ব্যবহারের বিল জুনের সাথে সমন্বয় হওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে, যা অনেক গ্রাহক বুঝতে পারছেন না। আমরা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে চাই, কারো বিলে ভুল থাকলে অফিসে যোগাযোগ করুন। আমরা তা যাচাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করব।
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন আশ্বাসেও গ্রাহকদের ক্ষোভ কাটছে না, বরং তাদের দাবি অহেতুক হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল প্রদান করা হোক।

