
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ জননিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিসেস লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলার চার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আদালত সহায়তা কার্যক্রম, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান নিরোধ, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলাগুলোর অগ্রগতি, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের নির্ভুল ও সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রণয়ন এবং জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিসেস লুৎফুন নাহার বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সব সরকারি দপ্তর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সন্ত্রাস, মাদক, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা পুলিশের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান পুলিশ সুপার।

