
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে গাছভর্তি ঝুলছে রসালো লিচু। ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বাগান মালিক ও লিচু চাষিরা।
বর্তমানে বাজারে মোজাফফরপুরী (আটি) লিচু উঠতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে আসবে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গাংনীর লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ বছর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। আবহাওয়াজনিত কারণে এবার লিচু কিছুটা আগেভাগেই পরিপক্ব হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে মোজাফফরপুরী বা আটি লিচু পাওয়া যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু বাজারে আসবে। এ বছর লিচুর উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি আরও জানান, লিচু সারা বছরব্যাপী পরিচর্যার একটি ফসল। তাই বাগানে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। কৃষি অফিস শুরু থেকেই বাগান মালিকদের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত লিচু সংগ্রহের আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান ছিল।
এদিকে বাগান মালিক শাফিক রানা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা একাধিক লিচু বাগান ক্রয় করেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ও দাম উভয়ই ভালো। গত বছর প্রতি কাউন লিচু ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা।
লিচু চাষি শরিফুল ইসলাম জানান, তার দুটি লিচু বাগান রয়েছে একটি প্রায় ৪ বিঘা এবং অন্যটি প্রায় ২ বিঘা জমিতে। এ বছর একটি বাগান ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় এবং অন্যটি ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। গত বছর একই বাগান দুটি মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তিনি বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট।
লিচু ব্যবসায়ী হৃদয় খান জানান, এ বছর মেহেরপুরের লিচু বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় চাহিদাও বেশি। ফলে ব্যবসায়ীরা ভালো বেচাকেনার আশা করছেন।
লিচুর মৌসুম ঘিরে গাংনীর বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে জমে উঠেছে বেচাকেনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে।

