
জনবলসংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলছে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।
সরকারি কাগজপত্রে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে এখানে জনবল কাঠামো মাত্র ১০০ শয্যার। ফলে প্রতিদিন চারশোরও বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে অপ্রতুল জনবল দিয়ে।
গতকাল সোমবার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, হাসপাতালে ২৫০টি শয্যা থাকলেও হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দাতেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ২৫০ শয্যার বিপরীতে হাসপাতালে ভর্তি আছে ৪০০ রোগী। এর সঙ্গে একজন রোগীর সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই থেকে তিনজন স্বজন। ফলে হাসপাতাল লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৩২৭ রোগী। এর মধ্যে শুধু পুরুষ ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছে ১৩৪ রোগী। ১০০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকের পদ আছে ৪১টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ২৯ জন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সিনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। একজন অ্যানেসথেসিস্ট ছিলেন, ঈদের আগে জরুরিভাবে তার বদলি হয়ে গেছে। ফলে মেজর অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ২ জন শিশু কনসালটেন্টের বিপরীতে আছেন একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট, ৭ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন। অফিস সহায়কের ৪টি পদই শূন্য। অ্যাম্বুলেন্স ৩টি থাকলেও চালক মাত্র ১ জন। ৫ শয্যার আইসিইউ ওয়ার্ড আছে, কিন্তু আইসিইউর জন্য নির্ধারিত জনবল নেই।
সদর উপজেলার আমদহ গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন তার বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন দুই দিন। বেড না পেয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বারান্দায়।
দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন উজুলপুর গ্রামের আব্দুর রহিম। তিনি জানান, ঈদের ছুটি থাকায় ঠিকমতো ডাক্তার আসেননি। তবে আজ সকালে ডাক্তার দেখে গেছেন।
হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকা স্বপ্না খাতুন জানান, ঈদের দিন রাত থেকে রোগীর চাপ বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, পেটব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
গতকাল সোমবার পুরুষ ওয়ার্ডে রোগী দেখছিলেন কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজিস্ট) কাজল আলী। তিনি জানান, “পুরুষ ওয়ার্ডের অধিকাংশ রোগী শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। রোগীভেদে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অধিকাংশই বয়োজ্যেষ্ঠ এবং ধূমপানে আসক্ত হওয়ায় তাদের এ সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হোসেন বলেন, “আমি মাত্র দুই মাস হলো এখানে এসেছি। তারপরও গত মাসে হাসপাতালের জনবলসংকট নিয়ে অধিদপ্তরে চিঠি লিখেছি, ভিডিও কনফারেন্সেও বলেছি। নতুন পদায়ন দেওয়া তো দূরের কথা, এখান থেকে চিকিৎসক বদলি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক পদায়ন করা হলে মেহেরপুরবাসী এ হাসপাতাল থেকে ভালো চিকিৎসাসেবা পাবে এবং আমরাও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারব।”

