
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মেহেরপুরে এক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (MIPS) প্রকল্পের আওতায় এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) এর অর্থায়নে গতকাল
বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুজিবনগর পিএফজির সমন্বয়কারী মো. ওয়াজেদ আলী খান এবং সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর সায়্যেদাতুন নেসা নয়ন।
সংলাপে প্রধান আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবুল সূত্রধর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইদুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. সিরাজুম মুনির।
অনুষ্ঠানে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এস. এম. রাজু জবেদ প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় নাগরিকদের ভূমিকা বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামান, রাজিয়া সুলতানা, শিহাব ও সুমী বিশ্বাস।
সংলাপে মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী, তরুণ-তরুণী, পিস অ্যাম্বাসেডর এবং স্থানীয় নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, গুজব প্রতিরোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজ উদ্দীন বলেন, যে ব্যক্তি নিজের ধর্মকে সঠিকভাবে লালন ও পালন করেন, তিনিই প্রকৃত মুমিন। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো আইনের শাসন যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া, যা অনেক সময় সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য” এই মূল্যবোধ বাস্তবায়ন করা গেলে সমাজে সহিংসতার ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. সিরাজুম মুনির বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে কোনোভাবেই গুজবে কান দেওয়া যাবে না। প্রতিটি ধর্মের অনুসারীর সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংলাপের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন আজমুল হোসেন মিন্টু, সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং পিস অ্যাম্বাসেডর, পিএফজি, মেহেরপুর সদর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা করে আসছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আরও জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টি না হয়।
অনুষ্ঠানে সায়্যেদাতুন নেসা নয়ন শান্তি ও সম্প্রীতি বিষয়ক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবুল সূত্রধর দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশকে এমন সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, অনেক সময় গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে তা বিশ্বাস বা প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ওয়াজেদ আলী খান বলেন, বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও বৈষম্য সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আন্তঃধর্মীয় সংলাপ সমাজে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

