
দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি বেজড অ্যাক্টিভেশন সভা।
রোববার (২৮ জুন) জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত ‘ইউথ গ্রিন এন্ট্রেপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এক বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৫০ জন তরুণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। চুয়াডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত ওয়েভ ফাউন্ডেশন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর ও মেহেরপুর সদর উপজেলায় মোট ৫১০ জন তরুণকে সবুজ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সভায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল আলম লিটন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মাহবুব হোসাইন আবির।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়) এ.জে.এম. সিরাজুম মুনির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ইয়াদুল মোমিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহবুবুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস.এম. রফিকুল আলম, অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক জানে আলম এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার ইলিয়াস হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ.জে.এম. সিরাজুম মুনির বলেন, “আমাদের দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষ। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।”
ইয়াদুল মোমিন বলেন, “দেশে লাখ লাখ বেকারের সবাইকে সরকারের একার পক্ষে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ বেকারত্বের বৃত্ত ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার ইলিয়াস হোসেন বলেন, “প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে তরুণরা জলবায়ু-সংবেদনশীল উদ্যোক্তা দক্ষতা অর্জন করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
অংশগ্রহণকারী তরুণ মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “সবুজ উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না। আজকের সভা আমাকে সেই পথ দেখিয়েছে।”
সভায় সবুজ ও টেকসই ব্যবসার ধারণা, উদ্যোগ গ্রহণের প্রাথমিক ধাপ, পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস এবং উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যবহারিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

