
মাদকের ছোবল, মোবাইল গেম ও জুয়ার আসক্তি ধীরে ধীরে গ্রাস করছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। শহর থেকে গ্রাম — কোথাও এ সমস্যা থেকে মুক্তি নেই। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকাস্থ মেহেরপুর জেলা সমিতি এবং মেহেরপুর এমকেএসপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্টার কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তাদের আহ্বান — যুবসমাজকে মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়াচর্চার প্রসার ঘটাতে হবে — অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
সুস্থ বিনোদন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে তরুণরা অনেক সময় বিপথগামী হয়। মাদক ও জুয়া শুধু একটি ব্যক্তির জীবন নষ্ট করে না, বরং একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে এবং দেশের উৎপাদনশীলতাকে দুর্বল করে তোলে। এ সমস্যা কেবল আইন-শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না; এর সমাধান খুঁজতে হবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।
ক্রীড়াচর্চা এ ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত মনোভাব, সহমর্মিতা এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলে। মাঠে ঘাম ঝরানো একটি তরুণকে সন্ধ্যার আঁধারে মাদকের আড্ডা থেকে দূরে রাখতে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্যান্য ক্রীড়া টুর্নামেন্ট আয়োজন নিছক বিনোদন নয়, এটি একটি সামাজিক বিনিয়োগ।
তবে শুধু একটি টুর্নামেন্ট দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে হবে। দখল হয়ে যাওয়া মাঠগুলো উদ্ধার করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। ঢাকাস্থ মেহেরপুরবাসীরা নিজ এলাকার উন্নয়নে যেভাবে এগিয়ে আসছেন, সেটি অনুকরণীয়। তাঁদের এই উদ্যোগ অনেক তরুণের হৃদয়ে সঠিক পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
স্থানীয় প্রশাসনকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ক্রীড়া বাজেট বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যুবসমাজকে সুস্থ ও সৃজনশীল কাজে নিযুক্ত রাখতে না পারলে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে যতই অভিযান চালানো হোক, তা দীর্ঘমেয়াদে ফলদায়ক হবে না।
এ ধরণের মতো আয়োজন যদি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে একদিন হয়তো ক্রিকেট ব্যাট আর ফুটবলই হবে মাদক ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

