
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা বাজারে সালিশের নামে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে মারধর, শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের ভাইরাল ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। ঘটনার ১২ দিন পর গতকাল বুধবার গাংনী থানায় ভুক্তভোগী আলপনা খাতুনের এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা নুর ইসলামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী আলপন খাতুন। মামলায় নুর ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, সিদ্দিক আলী, জালাল আলী ও রাজু আলীকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাড়িতে প্রবেশ, মারধর, শ্লীলতাহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ মে সকালে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে আলপনা খাতুনকে গালিগালাজ করতে করতে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন অভিযুক্তরা। তিনি প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ছেলে বেল্লাল হোসেনকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন আলপনা খাতুন একটি ধর্ষণ মামলার হাজিরা দিতে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের নামে নির্যাতন করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বেশ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে বুধবার গাংনী থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়।
এদিকে নুর ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রভাব খাটানো ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। কয়েক মাস আগে এক ধর্ষণ মামলার বাদীকে আদালতে যেতে বাধা দেওয়া, আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগেও তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ওই সময় তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
গাংনী থানার পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে এখনো আলোচনা চলছে। ভাইরাল হওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

