
দেশে রেপ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ আশঙ্কাজনক বেড়ে যাচ্ছে। দেশে ধর্ষণের হার ২৭% বেড়েছে।
অর্থনৈতিক অবনতির সাথে মানুষের নৈতিকতা অবক্ষয়ও বেড়ে চলছে। মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্ব দিকে ধাবিত হচ্ছি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে ভাবনার পাশাপাশি নৈতিকতার অবক্ষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমরা শুধুই ধনী হতে চাইছি, মানুষ হওয়ার ভাবনা নেই।
আমাদের এখন জরুরি ভাবনা এটাই, এই থেকে পরিত্রাণের উপায় কি!
কিভাবে এই রেপ, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন দূর করা যায়। সুশিক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও আইনগতভাবে কঠোর শাস্তিই হতে পারে পরিত্রাণের উপায়। কঠোর শাস্তি বলতে বুঝাচ্ছি ক্যাপিটাল পানিশম্যেন্ট বা মৃত্যুদন্ড। এইক্ষেত্রে অপরাধীদের প্রতি মানবিকতা বা শৈথিল্যতা সুযোগ নেই। অনেকের মতে মৃত্যুদন্ড হচ্ছে বর্বর আইন। কিন্তু তাদের প্রিয়জন যদি রেপড হয় তারাও কিন্তু মৃত্যুদন্ড দাবি করে। অন্যের ক্ষেত্রে তারা এটাকে বর্বর হিসাবে গণ্য করে।
খেয়াল করে দেখবেন, যে দেশে ধর্ষণ আইনে মৃত্যুদন্ড বহাল আছে সেই দেশে ধর্ষণের ঘটনা কম। যারা মৃত্যুদন্ডকে বর্বর বা অমানবিক গণ্য করে তাদের দেশে ধর্ষণের হার বেশী।
কিছু বছর আগের জরিপে দেখা যাচ্ছিলো:
আমেরিকাতে প্রতিবছর প্রায় ৩ লক্ষ ২১ হাজার মহিলা রেপের শিকার হয়। প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকান মহিলা রেইপ অথবা সেক্সুয়াল হ্যারাসের মুখে পড়ে। অবস্থা এতোই সংকটজনক যে সেখানে ৬৫+ বছরের বৃদ্ধারাও নির্যাতনের শিকার এবং এই হার শতকরা ৩ ভাগ। আর সব থেকে বেশি রেপের শিকার হয় ১৮ থেকে ৩৪ বছরের নারীরা (৫৪ ভাগ)। বিশ্বের ১০টা ধর্ষণ প্রধান দেশের মধ্যে আমেরিকার নাম সবার উপরে।
ভারতে প্রতি ২২ মিনিটে একটা করে রেইপ হয়। সেখানে ২৪ হাজার ৪৭০ টি কেস শনাক্ত করা হয়েছে যেখানে ভিক্টিম তার পরিবারের সদস্য যেমন পিতা, ভাই, কাজিন, দাদা অথবা পরিচিত কারো দ্বারা নির্যাতনের শিকার।
ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সুইডেনে রেইপের হার সব থেকে বেশি। সুইডেনে বিগত ১০ বছরে রেপের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৫৮ ভাগ। এই তালিকায় ইংল্যান্ডের অবস্থান ৫ নম্বরে। শুধু ইংল্যান্ডেই প্রতি বছর প্রায় ৮৫ হাজার রেইপ হয়। পুরো ইউনাইটেড কিংডমে এই সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি।
কানাডাতে মাত্র ৬ ভাগ রেইপ কেস পুলিশের খাতায় আসে। বাকিগুলো আসে না। ভিক্টিমদের অবস্থা এতোই করুন যে তাঁদের বেশিরভাগই ফিজিক্যালি অক্ষম হয়ে যায়। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুসারে শ্রীলঙ্কাতে গ্যাং রেইপ বেশি হয়। ৬৪ ভাগ রেপিস্ট জীবনে একাধিকবার রেইপ করে থাকে। ফ্রান্স ও জার্মানী প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে গেলেও রেইপের ক্ষেত্রে অনেক ঘটনা রয়েছে।
অনেকে মনে করে পতিতাবৃত্তি বৈধ করলে ধর্ষণ কমে যাবে। জার্মানিতে প্রতি ১০ হাজার মেয়ের মধ্যে ৪৯ জন সেক্স ওয়ার্কার হিসাবে কাজ করে। আমেরিকার কিছু প্রদেশে প্রস্টিটিউশন বৈধ। ভারতে কাগজে কলমে অবৈধ হলেও বাস্তবে ব্যাপক। মুম্বাই শহরেই প্রায় ১ লাখ সেক্স ওয়ার্কার আছে। কলকাতায় ১১টি রেড লাইট এলাকা রয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার সেক্স ওয়ার্কার কাজ করে।
বাংলাদেশে ফিরে আসুন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা মিডল ক্লাস লেভেলের পতিতাদের জন্য পরিচিত। এত কিছুর পরেও বাংলাদেশে রেইপ হয়। নৈতিকতার অবক্ষয়ের জন্য যদি আরও ব্রোথেল তৈরি করা হয় তবুও রেইপ কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
অর্থাৎ ব্রোথেল থাকলে রেইপ কমে—এই ধারণা ভুল। ধীরে ধীরে বিস্তারশীল কুশিক্ষা, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার, নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি উদাসীনতা এবং আইনের দুর্বলতার কারণে সমাজ ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। উপায় হচ্ছে—সুশিক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং আইনগতভাবে কঠোর শাস্তি। অপরাধীদের প্রতি কোনো শৈথিল্যতার সুযোগ নেই।

