
আলমডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সমবায় সদস্য, শিক্ষক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল, সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর আমির মাহের আলী, ইউসিসিএ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, ক্রীড়া সংগঠক শরিফুল ইসলাম পিন্টু, ৬ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি আক্রার উজ্জামান দুলু, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আমির আব্দুর রহিম শহিদুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, “১৯৫৯ সালে ড. আখতার হামিদ খান পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কার্যক্রমের ভিত্তি গড়ে তোলেন। এর লক্ষ্য ছিল গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তোলা। সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে কাজ করছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, “আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ এবং সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রামের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। উৎপাদন খরচ কমানো ও বাজার ব্যবস্থাপনা সহজ করতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।”
বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়নে সমবায়, ক্ষুদ্র সঞ্চয়, কৃষি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, আগে গ্রামের মানুষ শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন সঞ্চয়, প্রশিক্ষণ ও সমবায় কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেকে নতুনভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা রাস্তাঘাট, সেচব্যবস্থা ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানান।
শেষে পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর টেকসই অগ্রগতিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

