
আলমডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে পরিচিত ‘স্মৃতিস্তম্ভ-৭১’। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে খোদাই করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের অধিকাংশই এখন মলিন হয়ে প্রায় মুছে গেছে। স্তম্ভের চূড়ায় অঙ্কিত জাতীয় পতাকার রংও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে থাকা আলোকসজ্জার বাতিটিও অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাতের বেলায় স্মৃতিস্তম্ভটি অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও অসংখ্য মানুষ চলাচল করলেও স্মৃতিস্তম্ভটির করুণ অবস্থার দিকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সৌন্দর্য।
অনেকেই মনে করেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভের এমন অবস্থা শুধু অবহেলারই নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার প্রতিও এক ধরনের উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভটির সংস্কার, পুনরায় নামফলক দৃশ্যমান করা, জাতীয় পতাকার রং নবায়ন এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হোক।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের আহ্বান, মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্মারক ‘স্মৃতিস্তম্ভ-৭১’-কে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে।

