
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল ইসলাম মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, মাদ্রাসার এক ছাত্র (ছদ্মনাম: সারাফাত), যার বাড়ি জীবননগরের ডুমুরিয়া এলাকায়, তাকে কয়েক মাস আগে বলাৎকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রটি ছুটিতে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে গত রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে ওই রাতেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক নুরুল ইসলামকে ডেকে এনে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এবং চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, নুরুল ইসলাম আগে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করতেন। তিনি কীভাবে শিক্ষক হলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, নুরুল ইসলাম শিবনগর এলাকা থেকে ছাত্র সংগ্রহ করে হুদাপাড়ায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ ছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, আগে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করলেও পড়াশোনা করে পরবর্তীতে শিক্ষক হয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

