
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের শিক্ষক, শিক্ষিকা, কেয়ারটেকারসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং সরকারি গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি উত্থাপন করেন প্রকল্পের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এর আগে তারা নিজেদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।
এ সময় মউশিক শিক্ষক কল্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসেন, সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা খায়রুল ইসলাম, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা শিহাব উদ্দীন ও ফারুক হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এই যুগান্তকারী শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পটি চালু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ইতোমধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে ৭টি পর্যায় সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বর্তমানে ৮ম পর্যায়ে পদার্পণ করেছে।
বর্তমানে এই প্রকল্পে ঝিনাইদহের ৯০৭টি কেন্দ্রে সমপরিমান শিক্ষকসহ সারা দেশে ৭১,৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ বছর ধরে অত্যন্ত স্বল্প ভাতা এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে তারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষকরা সরকারি তহবিলে জাকাত প্রদানে মুসল্লিদের উৎসাহিত করেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে জাকাত সংগ্রহ করে থাকেন। এছাড়া মাদক, বাল্যবিয়ে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। অথচ অবহেলা আর অবমূল্যায়নের কারণে বর্তমানে তাদের নিজেদের জীবনই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সংবাদ সম্মেলন এই মহৎ ও সফল প্রকল্পটি দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান ও চাকরি স্থায়ী করার মাধ্যমে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী করে শিক্ষক-কর্মচারীদের এই মানবিক ও যৌক্তিক দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসকের দপ্তর ছাড়াও ঝিনাইদহজেলার অন্যান্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকটেও এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

