
দর্শনার বিভিন্ন মাঠে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি, শিলা ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে পাকা ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তারা।
পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকায় অনেক কৃষকের রাতে ঠিকমতো ঘুমও হচ্ছে না। ধান ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত শনিবার উপজেলার পারানপুর, রামনগর, বেতেগাড়ী, নলগাড়ী ও সুন্দর মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে পাকা ধানে ভরে আছে মাঠ।
কৃষকরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকছেন কবে বৃষ্টি থামবে, কবে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন, সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় পাকা ধান গাছে অঙ্কুর (কল) বের হতে শুরু করেছে, যা ফলনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এদিকে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির কারণে দিনমজুররাও পড়েছেন চরম বিপাকে। কাজ না থাকায় অনেকেই খেয়ে-না-খেয়ে দিন পার করছেন।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ইরি ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি ১১ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন এবং উফশী ধানের ফলন ৬ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ধরা হয়েছিল। তবে বর্তমান আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পারানপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে সরোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ২ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে ধান ছিল। আগাম চাষ করায় কিছুটা ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। বিঘাপ্রতি ২২-২৩ মণ ফলন পেয়েছি। তবে বৃষ্টির কারণে খড় মাঠেই গাদা করে রেখে আসতে হচ্ছে।”
একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না। গাছে অঙ্কুর বের হয়ে যাচ্ছে।”
রুদ্রনগর গ্রামের ভেগা মিয়া বলেন, “ধান পেকে গেছে, পানির মধ্যেই কেটে ফেলতে হচ্ছে।”
রামনগর গ্রামের জমির আলী জানান, “এই সময়টায় ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ জোরেশোরে চলার কথা ছিল। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ। ঘরে বসে সময় পার করছি, ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”
এ অবস্থায় দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

