
মেহেরপুরের গাংনীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। শিশুদের খাদ্য নিয়ে এই অনিয়ম ও পরবর্তীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধের লক্ষ্যে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’ এনজিও।
গত ১ জুলাই পৌর শহরের বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি বিতরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে শিক্ষা প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সখ্যতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, শুরু থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ ছিল। শিক্ষকরা বারবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘সুশীলন’-এর এক কর্মকর্তা জানান, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ‘মাসোহারা’ না দিলে বিল উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই তাদের সন্তুষ্ট রেখেই এই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খাদ্যের মান নিয়ে অনিয়ম ধরিয়ে দেওয়া কি আমার অপরাধ হয়েছে? সত্য কথা বলায় আমাকে এখন শোকজ খেতে হলো।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হলো জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র জানান, “ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধান শিক্ষককে শোকজের বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, সেই ‘সুশীলন’ এনজিওর বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং সরকারি তহবিলের অর্থ লোপাট ও অনিয়মের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

