
মানুষের জীবনে বাবার ভূমিকা অনেক সময় নীরব, অথচ অত্যন্ত গভীর। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একজন বাবা সারাজীবন পরিশ্রম করেন, দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করার জন্যই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বাবা দিবস।
বাবা দিবসের ইতিহাস আমাদের নিয়ে যায় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের এক নারী, সোনোরা স্মার্ট ডড, এই দিবসটি চালু করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মা মারা যাওয়ার পর তাঁর বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন।
বাবার সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের কথা মনে রেখে সোনোরা চেয়েছিলেন বাবাদের সম্মান জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিন থাকুক।
১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো স্পোকেন শহরে বাবা দিবস উদযাপিত হয়। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে জাতীয় স্বীকৃতি পেতে সময় লেগেছিল অনেক বছর। অবশেষে ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে জাতীয় বাবা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালিত হয়। কোথাও সন্তানরা বাবাকে উপহার দেয়, কোথাও শুভেচ্ছা কার্ড পাঠায়, আবার কোথাও পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
তবে উপহার বা আয়োজনের চেয়ে বড় বিষয় হলো বাবার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করা।
আমাদের সমাজে বাবারা অনেক সময় নিজেদের আবেগ প্রকাশ করেন না। তাঁরা নীরবে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করেন।
তাই বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি বাবার অবদানকে নতুন করে উপলব্ধি করার একটি সুযোগ।
বাবা হলেন পরিবারের বটবৃক্ষের মতো, যার ছায়ায় সন্তানরা নিরাপদে বেড়ে ওঠে। তাঁর কঠোরতা সন্তানের শৃঙ্খলা শেখায়, তাঁর পরামর্শ জীবনের পথ দেখায় এবং তাঁর ভালোবাসা আত্মবিশ্বাস জোগায়।
তাই বাবা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে একজন বাবার নীরব ত্যাগ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে।
বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন না হলেও, বাবা দিবস সেই অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করার একটি সুন্দর উপলক্ষ।
এই দিনটি আমাদের শেখায়, যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে কখনো কার্পণ্য করা উচিত নয়। পৃথিবীর সব মানুষ খারাপ হতে পারে। তবে কোন বাবাই খারাপ না। পৃথিবীর সব বাবাদের কুর্ণিশ।

