
মেহেরপুর সরকারি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জ্বর, গ্যাস্ট্রিক, সাধারণ ব্যথা, ডিএনএস স্যালাইন জাতীয় সাধারণ কিছু ওষুধ ছাড়া অন্যান্য অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এমন অভিযোগ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে রোগীরা এসেছেন চিকিৎসা নিতে। কেউ জ্বরে কেউ গ্যাস্ট্রিক বা ব্যাথায় কেউ বা হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। প্রয়োজনমত কিছু সাধারণ ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাচ্ছেন, বাকিগুলো বাইরে থেকে কিনে নিতে হয়। দরিদ্র রোগীদের জন্য বাইরে থেকে ওষুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়ে।
সদর উপজেলার মদনা গ্রামের মোছা: খাদিজা খাতুন কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। তিনি এসেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। তিনি বলেন, আমার জ্বর হয়েছে। এই জন্য হাসপাতালে ওষুধ নিতে এসেছি। ডাক্তার আমাকে কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছেন। তার মধ্যে শুধু প্যারাসিটামল পেয়েছি, আর বাকিগুলো বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে।
শহরের হোটেল বাজারের হাফিজুর বলেন, আমি মাজার ব্যথায় ভুগছি। ডাক্তার আমাকে কিছু ওষুধ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ওই ওষুধ দেয়নি। বাইরে থেকে কিনতে হবে। দিয়েছে শুধু ভিটামিন আর প্যারাসিটামল।
একই উপজেলার আশরাপুরের মো. আজিব উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে কোনো না কোনো ওষুধের ঘাটতি থাকে। ডাক্তার কিছু ওষুধ দেন, যা পাই; আর বাকিগুলো বেশি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে নিতে হয়।
শহরের মালোপাড়ার মোছা. হোসনে আরা বলেন, ডাক্তার আমাকে ছয়টা ওষুধ লিখে দিয়েছেন।বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
রামদাশপুরের মো. তাহাসিন বলেন, সাধারণ সমস্যার যে ওষুধগুলো আছে, সেগুলো হাসপাতালে পাচ্ছি। যেমন জ্বর, কাশি ও ঠান্ডার ওষুধ। কিন্তু এর থেকে একটু কঠিন রোগের ওষুধ এই হাসপাতালে নেই।
গাংনী উপজেলার কাথুলী গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ডাক্তার পরীক্ষা দিয়েছেন আর ওষুধ লিখে দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আমি ওই ওষুধ পাইনি। আমাকে বাইরে থেকে কিনতে হবে।
গোভীপুরের নজরুল বলেন, ডাক্তার চারটা ওষুধ লিখেছেন। কিন্তু একটা পাইনি। ওটা দোকান থেকে নিতে হবে। আমার সমস্যা হার্টের। আমি গরিব মানুষ। সরকার যদি সব ওষুধ দিতে পারে, তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে। এটাই তো আমাদের প্রাপ্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল ওলমিসারটান ২০ মি.গ্রা. ,অ্যামলোডিপিন ৫ মি.গ্রা., ,সালবিউটামল, বি-কমপ্লেক্স, অ্যান্টাসিড, ক্লোপিডোগ্রেল ৭৫ মি.গ্রা., অ্যাসপিরিন ৭৫ মি.গ্রা., ক্লোনাজেপাম ০.৫ মি.গ্রা., মেটফরমিন ৫০০ মি.গ্রা., সেটিরিজিন,. জিটিএন ২.৬ মি.গ্রাম, রোসুভাস্টাটিন ১০ মি.গ্রা., অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মি.গ্রা, এফ/এস, ট্যাব. ভিসেট ইনজেকশন, ক্যাপসুলের মধ্যে সেফিক্সিম ২০০ মি.গ্রা., প্রেগাবালিন ৫০ মি.গ্রা., সিরাপের মধ্যে প্যারাসিটামল, সালবিউটামল, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও জিংক সরবরাহ রয়েছে। সরবরাহ অনুযায়ী চিকিৎসকের জানিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সরবরাহ অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা লিখে দেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে এবং চার শতাধিক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট সেলিম রেজা বলেন, সরবরাহ অনুযায়ী চিকিৎসকরা যা লিখেন তাই রোগীদের দেওয়া হয়। যেগুলো সরবরাহে নেই সেগুলো বাইরে থেকে রোগীদের কিনতে হয়। তবে চিকিৎসক বেশি লিখে দিলে অনেক সময় বেশি ওষুধ দেওয়া হয়।

