
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পুরাতন মটমুড়া গ্রামের আকাশ উদ্দিন নামের এক আদম ব্যবসায়ীর লোভনীয় ও মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে সৌদি আরবে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৭ যুবক।
সৌদির আকামাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় একটি ঘরে আটক অবস্থায় রয়েছেন তারা। সারাদিনে একবার খাবার পেলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম নেই। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথক পৃথক ভিডিও বার্তায় তারা তাদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন।
খোঁজখবর না পেয়ে স্বজনরাও এখন দিশেহারা। আদম ব্যবসায়ী মটমুড়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আকাশ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাংনী থানা ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার। শনিবার দুপুরে গাংনী থানায় এসে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগে জানা গেছে, আরামদায়ক কাজ, ভালো বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভনে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিদ্দুসের ছেলে লিংকন, জাহিদুল ইসলামের ছেলে সজিব, আনারুল ইসলামের ছেলে বাসারুল ইসলাম, কোদালকাটি গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে তাইমুদ্দিন, সিন্দুরকোটা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে শুরুজ আলি, মটমুড়া গ্রামের নাইম ও জিনারুল ইসলামসহ অনেক যুবককে সৌদি আরবে নিয়ে যান পুরাতন মটমুড়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আকাশ উদ্দিন।
সিন্দুরকোটা, কোদালকাটিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ মাস আগে প্রত্যেকের সঙ্গে সাড়ে ৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে ৯ যুবককে সৌদি আরবে নিয়ে যান আকাশ। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে ওই যুবকদের পরিবারের কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন আকাশ। সন্তানের কষ্ট দেখে প্রত্যেক পরিবার আবারও ৫০ হাজার টাকা করে দেন। সেই টাকা নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন আকাশ।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, আকামাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে কাজে লাগানোর কথা থাকলেও সাত মাস পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোনো কাজ দেয়নি দালাল আকাশ। এখন পরিবারের সদস্যরা ছেলেদের খোঁজ নিতে আকাশের বাড়িতে গেলে তিনি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিদেশে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সন্তানরা এখন বিদেশের মাটিতে বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে জীবনযাপন করছেন। বিভিন্ন গোপন স্থান থেকে ভুক্তভোগী ৭ যুবক ভিডিও পাঠাচ্ছেন পরিবারের কাছে। দালালের লোকজন তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে দিনে একবেলা খাবার দিচ্ছে। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন মা-বাবা ও স্বজনরা। তারা নিজেদের সন্তানদের চুক্তিমতো কাজ ও ভালো বেতন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানব পাচারকারী আকাশ দালালের বিচার দাবি করেছেন। গত শনিবার গাংনী থানায় পৃথকভাবে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া মেহেরপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আকাশ উদ্দিন বলেন, “তাদের আমি বিদেশে পাঠিয়েছি। আমি সৌদি আরবে ছিলাম, এখন বাড়িতে চলে এসেছি। তবে তারা কষ্টে নেই। চুক্তি অনুযায়ী তাদের তিন মাসের আকামা করে দিয়েছি।”
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার জানান, পাঁচজন ভুক্তভোগী থানায় এসে আকাশ নামের এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীদের আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, বিদেশে নিয়ে যেসব যুবকদের হয়রানি করা হচ্ছে, তাদের পরিবার অভিযোগ দিলে ভুক্তভোগীদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।

