
দাতা সংস্থা দি লেপ্রোসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিএলএমআইবি) কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুরের কুষ্ঠ রোগীরা। তাদের সহযোগী সংস্থা সলোম, চার্চ অফ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় দাতা সংস্থাটি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
এর ফলে মেহেরপুরের সনাক্ত হওয়া ৮২৯ রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোগীদের দাবি অন্য কোন সংস্থার মাধ্যমে হলেও প্রকল্পটি যেন চালু থাকে।
জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সীমান্তবর্তী মেহেরপুরকে কুষ্ঠ রোগের রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করে। মেহেরপুর সহ সারাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করার লক্ষে টিএলএমআইবি ২০১৫ সালে অংশিদারিত্বেও ভিত্তিতে কাজ শুরু করে।
সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষে মেহেরপুওে সালোম এনজিও সাথে তাদেও কুষ্ঠ রোগ নিমূল প্রকল্প কাজ শুরু করা হয়।
টিএলএমআইবি ‘সালোম’-এর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মেহেরপুওে ৮২৯ জন রোগীর কুষ্ঠ সনাক্ত করে এবং ৭৮৬ জন রোগীকে সেবা দেয় এবং তারা সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
প্রকল্প চলাকালীন সময়ে সালোম ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে চরম দুর্নীতি এবং মামলায় জড়িয়ে পড়ার কারণে টিএলএমআইবি সালোমের সাথে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, দক্ষিণ-পশ্চিমের দশটি জেলার মধ্যে জেলাটিকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা সত্বেও জেলাবাসী টিএলএমআইবির মানবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সালোম ব্যতিত মেহেরপুর জেলায় পরিচালিত অন্য কোনো বিশ্বস্ত এনজিওর মাধ্যমে কুষ্ঠরোগ কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষের দাবি টিএলএমআইবির কুষ্ঠরোগ কার্যক্রম থেকে জেলার তিনটি উপজেলার মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন।
সদর উপজেলার পিােজপুর গ্রামের রোগী হাদেছা খাতুন দাবী করেন, টিএলএমআইবি মেহেরপুর জেলায় কাজ করুক আমরা উপকৃত হচ্ছি।
মুজিবনগর উপজেলার বিশ^নাথপুর গ্রামের শিশু রোগীর মা রিজিয়া খাতুন বলেন, আমার ছেলে জাহিদ কুষ্ঠ মিশনের সেবায় মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে এসেছে তাই আমরা চাই সংস্থাটি অন্য কোনো ঝামেলা মুক্ত সংস্থা বা নিজেরা আমাদেও এখানে কাজ করুক।
মেহেরপুর পশুহাসপাতাল পাড়ার বিশিষ্ট সমাজ সেবক মশিয়র রহমান খান বলেন, জেলায় কুষ্ঠ মিশনের কাজ টিএলএমআইবি চলমান রাখুক। কারণ তাদের মাধ্যমে মেহেরপুরের কুষ্ঠরোগীরা উপকৃত হয়েছে।
জানা গেছে, টিএলএমআইবি তাদের অর্থায়নে মেহেরপুর জেলায় কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ৩৭টি স্কিন ক্যাম্প, ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কুষ্ঠ রোগ বিষয়ক পরিচিতিমূলক কার্যক্রম এবং ১২টি বিলবোর্ড স্থাপন করেছে।
জেলায় তাদের কার্যকালে নতুন কুষ্ঠ রোগী শনাক্তকরণ ও তার প্রতিকার বিষয়ে মেহেরপুরের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করেছে। উপজেলা পর্যায়ে তাদের কার্যকালে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রম প্রদান করেছে।
এছাড়াও লিফলেট বিতরণ, ভিডিও প্রদর্শন এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কুষ্ঠ দিবস উদযাপন করেছে। পাশাপাশি, কুষ্ঠ রোগীদের জন্য আয়বর্ধক কাজের ব্যবস্থা করা এবং তাদের বিভিন্ন সরকারি অধিকার প্রদানের জন্য তিনটি উপজেলায় কুষ্ঠ রোগী, কুষ্ঠ-আক্রান্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সাধারণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে মোট ২২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং তিনটি ফেডারেশন গঠন করা করেছে, যেগুলো কুষ্ঠ-আক্রান্ত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫-১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে রোগটি দেখা যাচ্ছে যদিও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা কুষ্ঠে আক্রান্ত হয় না। মোট ৮২৯ জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং সকলেই সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
জেলায় কুষ্ঠের সার্বিক অবস্থা জানতে এই প্রতিবেদক মেহেরপুরের ‘সালোম চার্চ অফ বাংলাদেশের সভাপতি হেমেন হালদারকে কয়েকবার ফোন করা হলেও কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

