
আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফকে এক বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার আলমডাঙ্গা উপজেলা মঞ্চে এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন।
গণসংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরিফ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক সেলিমুল হাবিব প্রমুখ।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এমদাদুল হক, যুবদলের আহ্বায়ক মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক নাজিমুদ্দিন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্যসচিব রাসেল, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসান রিংকু, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জামজামি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলম শাহ, ডাউকি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদার হোসেন, বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন, হারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি টিপু সুলতান, জেহালা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুজ্জোহা মিল্টন, বাড়াদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের নেতা তোবারক হোসেন, চিৎলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিপ্লব হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সম্পাদকগণ।
এছাড়াও উপজেলা ও পৌর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে নবনিযুক্ত প্রশাসককে নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন,
“আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শ্রদ্ধেয় সভাপতি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা আমার প্রাণপ্রিয় দলীয় সহকর্মী, বীর জনতা এবং উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা সবার প্রতি আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।
আজ আপনারা আমাকে যে সম্মান ও ভালোবাসায় সিক্ত করলেন, তার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আমার এই নিয়োগ আসলে কোনো ব্যক্তিগত পদ বা ক্ষমতার বিষয় নয়; এটি চুয়াডাঙ্গার আপামর জনসাধারণ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ত্যাগের ফসল।”
শরিফুজ্জামান শরিফ আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারিনি। বিজয়ী করতে না পারার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। পরাজয়ের পর অনেকেই খুশি হয়েছেন, অনেকেই বলে বেড়িয়েছেন আমরা ছাড়া পাশ করা সম্ভব নয়। অনেকেই সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, আবার অনেকে গোপনে বিরোধিতা করেছেন।
আমি একটি বার্তা আপনাদের দিতে চাই। ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস। জামায়াতে ইসলামীসহ ১৮-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আমরা এক লাখ ভোট পেয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, জেলা পরিষদকে আমি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং জনবান্ধব একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করব। অতীতে যারা জেলা পরিষদকে নিজেদের পকেট ভারী করার মাধ্যম বানিয়েছিল, তাদের দিন শেষ। এখন থেকে প্রতিটি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
আলমডাঙ্গাসহ চুয়াডাঙ্গার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি যেন তা সঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।
দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং করবেন না। অতীতে আমরা গ্রুপিংয়ের কারণে এই আসনটি হারিয়েছি। আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। দেশের এই ক্রান্তিকালে আমাদের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
আমি আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য। আপনারা যেভাবে অতীতে সকল প্রতিকূলতার মধ্যে দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন, আগামীতেও ঠিক সেভাবেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গাকে একটি সমৃদ্ধ ও মডেল জেলায় রূপান্তর করতে আমাকে সহযোগিতা করবেন।”

